মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ইছামতি নদীতে হইয়া গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টা থিকা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো অইছিলেন হাজার হাজার মাইনষে।
নৌকা বাইচে ঘিওর উপজেলার দিয়াইলের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, হরিরামপুরের গায়ান বাড়ি, গায়ান তরী, হাজারি তরীসহ পাঁচটা নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুরের গায়ান তরী চ্যাম্পিয়ন অয়।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কোর্টকান্দি কাটাখালী থিকা শুরু অইয়া গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মনোপীড় মাজারসংলগ্ন ঘাটে গিয়া শেষ অয় এই বাইচ। গোপীনাথপুর মনোপীড় মাজার কমিটি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
দুপুর থিকাই নদীর দুই পাড়ে নানা রঙ আর বিচিত্র সাজে সাজানো নৌকা আর মাঝিদের বাইচ শুরু অয়। বিকাল গড়াইতে গড়াইতে জমজমাট অইয়া ওঠে প্রতিযোগিতা। মাঝিদের ‘হেইও হেইও’ ধ্বনি আর বৈঠার তালে নদীর চারপাশ মুখর অইয়া ওঠে। পাড়ে খাঁড়াইয়া থাকা মাইনষের করতালি আর হর্ষধ্বনিতে তৈরি অয় উৎসবের আমেজ।
নৌকা বাইচ দ্যাখতে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে কইরা দূর-দূরান্ত থিকা হাজার হাজার দর্শনার্থী আইসা জড়ো হন। নারী-পুরুষ, ছুট-বড় ব্যাবাক বয়সের মাইনষেই উপভোগ করেন গ্রাম বাংলার এই পুরান ঐতিহ্য।
ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের যুবক কালাম মিয়া কইলেন, ‘চার-পাঁচ বছর পর বাইচ দ্যাখলাম। আইজক্যা বালো বাইচ অইচে। মানুষ আর মানুষ। আর বৈঠার হেইও হেইও তালে বাইচ ম্যালা বালো লাগছে।’
পুরস্কার বিতরণকালে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ কইলেন, ‘নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার পুরান ঐতিহ্য। আইজক্যা হাজার হাজার মাইনষে এই বাইচ উপভোগ করতেছে। এইটা আমাগো বাংলার ঐতিহ্য। বিএনপি আর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় আইজক্যার বাইচটা আরু প্রাণবন্ত অইছে।’
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিজা বিসরাত হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইমুন চৌধুরীসহ মনোপীড় মাজার কমিটির সদস্য আর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত আছিলেন।
স্টার নিউজ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬